মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকির পরপরই বৈশ্বিক তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১১০ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১১২ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়ে। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তবে দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেয়।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ওয়াশিংটনের এই অনড় অবস্থান বিশ্ববাজারে নতুন করে উদ্বেগ ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে।
তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগী হয়েছে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ওপেক প্লাস’। জোটটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী মে মাস থেকে বাজারে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হবে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন বাড়ালেও মূল সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া কঠিন। ফলে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিকট ভবিষ্যতে কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।












